আপনার জন্য

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

ডেস্কটপ নাকি ল্যাপটপ কোনটা কিনবেন? কোনটি কিনলে ভাল হবে?

 Desktop VS Laptop


বর্তমান বিশ্ব যেভাবে আধুনিক এখন একটা ল্যাপটপ অথবা একটা ডেস্কটপ ছাড়া

নিজেকে কল্পনা করা অসম্ভব প্রায়, এটা যেনো একটা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের

মতো হয়ে গেছে। আপনি অনলাইনে কোন প্রকার কাজ করেন অথবা আপনার

ব্যক্তিগত কোনো প্রকার কাজ করেন, আপনার একটা ল্যাপটপ অথবা ডেস্কটপ

থাকা প্রয়োজন। অনেকে আবার শখের বসে ল্যাপটপ এবং ডেস্কটপ কিনে থাকে।

আবার বর্তমানে অফিসের কাজে ক্ষেত্রেও একটা কম্পিউটার এখন সময়ের দাবি

হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সময়ে একটা পার্সোনাল কম্পিউটার অনেকটা অপরিহার্য

হয়ে পড়েছে, হোক সেটা লেখাপড়া, কাজকর্ম কিংবা শুধুই বিনোদনের জন্য। কিন্তু

অনেকেরই সবচেয়ে বড় সমস্যা সৃষ্টি হয় ল্যাপটপ আর ডেস্কটপের মধ্যে কোনটা

কিনবেন সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে অনেকেই প্রচুর সময় অপচয় করে।

ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ উভয় ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা কিছু সুবিধা এবং কিছু অসুবিধা

আছে। কিন্তু আপনার যদি বাজেটের কারণে দুইটা থেকে যে কোনো একটা বাছাই

করতে হয় তাহলে আপনার জন্যই এই ব্লগ পোস্ট।


উদ্দেশ্য এবং প্রয়োজনীতা 

প্রথমেই বিবেচনা করতে হবে আপনি কোন কাজের জন্য কম্পিউটার কিনবেন এবং

আপনার বাজেট কত? একই বাজেটে আপনি ল্যাপটপের চেয়ে অনেক ভালো

পারফরমেন্সের ডেস্কটপ পেতে পারেন। আবার আপনি ডেস্কটপ বহন করতে

পারবেন না কিন্তু আবার ল্যাপটপ সহজেই যেখানে খুশি বহন করে নিয়ে যেতে

পারে। তাই আপনার প্রয়োজনীতা এবং উদ্দেশ্য উপর নির্ভর করে বাছাই করতে

হবে। 


কার্যক্ষমতা

ল্যাপটপ এবং ডেস্কটপ উভয় আলাদা আলাদা কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণ। ল্যাপটপ

তুলনামূলক ছোট আকারের হওয়ায় এর পরিপূর্ণ কাঠামো এবং যন্ত্রাংশ একত্রিত

করতে নির্মাতাদের বাড়তি খরচ করতে হয়। এই কারণে ল্যাপটপের দাম ডেস্কটপের

চেয়ে তুলনা মূলক বেশি হয়। অর্থাৎ আপনি একই বাজেটে যে ল্যাপটপ পাবেন তার

চেয়ে বেশি শক্তিশালী ডেস্কটপ সেই দামে কিনতে পারবেন। আবার ভালো

পারফরমেন্সের ল্যাপটপ পাবেন তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে অনেক টাকা গুনতে

হবে। তাই আপনার বাজেট যদি কম এবং আপনি ভালো পারফরমেন্সের 

কম্পিউটার বিবেচ্য বিষয় হয়, তাহলে আপনি ডেস্কটপ কিনতে পারে। 


যন্ত্রাংশ সংযোজন এবং মেরামত

ডেস্কটপকে তুলনামূলক সহজে আপনার প্রয়োজনমত কাস্টমাইজ করে নিতে

পারবেন। ডেস্কটপ কম্পিউটারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো যেকোনো হার্ডওয়ার

আপনি যেকোন সময় আপগ্রেড করতে পারবেন। আপনি চাইলে আপনার RAM

কে বাড়িয়ে নিতে পারতেছেন, আপনি চাইলে আপনার ইচ্ছামত গ্রাফিক্স কার্ড

ব্যবহার করতে পারেন। এক কথায় যেকোনো টাইপের হার্ডওয়ার আপনি যেকোন

সময় ডেস্কটপে খুবই সহজেই আপগ্রেড করতে পারবেন। ডেস্কটপ এর অন্যতম

আরেকটা সুবিধা হলো আপনি চাইলে ইচ্ছা মতো বড় স্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন।

 



কিন্তু আপনি ল্যাপটপে বড়জোর র‍্যাম আর স্টোরেজ আপগ্রেড করতে পারেন।

তাই ল্যাপটপ কিনতে হলে আপনাকে ভালো ভাবে বিবেচনা করে কিনতে হবে।

কারণ ল্যাপটপ আপনি সবকিছু আপগ্রেড করতে পারবেন না। 



সহজে বহন করার সুবিধা

আজকাল কম্পিউটারের কাজকর্ম শুধু আপনার অফিসে বা বাসারই সীমাবদ্ধ

নেই। আপনি কোথাও বেড়াতে গেলে কিংবা ট্রাফিক জ্যামে বসেও আছেন তখন

আপনি কম্পিউটারে কাজ করতে চাচ্ছেন - আপনি তখন ডেস্কটপে কাজ করতে

পারবেন না, সেক্ষেত্রে আপনাকে ল্যাপটপ ব্যবহার করতে হবে।



 

তাছাড়া যাদেরকে সারাদিনই হাল্কা কিছু কাজ করতে হয় তারা অনেক সময়

শুয়ে বা বসে কাজ করতে চান। সেক্ষেত্রে ল্যাপটপই আপনাকে এই সুবিধা দিতে

পারে। ল্যাপটপের অন্য একটা বড় সুবিধা হলো আপনি ল্যাপটপে ব্যাটারি

ব্যাকআপ পাবেন যেটা আপনি ডেস্কটপে পাবেন না। আপনার বিদ্যুৎ যদি না

থাকে তাহলেও আপনি ল্যাপটপ চালাতে পারবেন সেই ব্যাটারি ব্যাকআপ

থেকে। আপনি ৬ থেকে ৮/১০ ঘণ্টা অর্থাৎ প্রত্যেকটা ল্যাপটপের ব্যাটারির ধারণ

ক্ষমতা অনুযায়ী আপনি ব্যাকআপ পাবেন। অনুরূপভাবে আপনি ডেস্কটপ

কম্পিউটারে আপনি এক সেকেন্ড ও ব্যাকআপ পাচ্ছেন না। পাশাপাশি পাওয়ার

ব্যাকআপ ও লোডশেডিংয়ের কথা চিন্তা করলে এবং আপনার যদি একটি

বহনযোগ্য কম্পিউটার দরকার হয়, তাহলে ল্যাপটপের কোনো বিকল্প নেই।




ব্যবহার করতে সুবিধা

সুন্দর ডিজাইন, কম্প্যাক্ট বডি, ইন্টিগ্রেটেড ওয়েবক্যাম কিংবা ফিঙ্গারপ্রিন্ট

সেন্সর সহ ছোট একটা কমপ্লিট প্যাকেজ হিসেবে ল্যাপটপই সেরা। তাছাড়া

আধুনিক ল্যাপটপগুলোতে থাকা টাচস্ক্রিন আপনাকে সহজ এবং দ্রুত কাজ

করার সুবিধা দিবে। এইসব হয়তো আপনি আলাদা কম্পোনেন্ট ব্যবহার করে

ডেস্কটপেও পাবেন। ল্যাপটপ সিলিম, দেখতে সুন্দর, ছোট, তাই এটা পার্সোনাল

ইউজের জন্য আরামদায়ক।  তাছাড়া ক্লাসে নিয়ে যাওয়া কিংবা অফিস

মিটিংয়ে একটা ল্যাপটপের বিকল্প নেই। তাই এই ক্ষেত্রে জিতবে ল্যাপটপ।



ভারী কাজ ও গেম খেলা

যারা গেমিং পছন্দ করেন কিংবা নিয়মিত গেম খেলেন তাদের জন্যও ডেস্কটপ পিসি

অধিক সুবিধাজনক। অধিক গ্রাফিক্লা অথবা ভারী গেম কিংবা আপনি ভিডিও

এডিটিং এর কাজ করতে চান সেক্ষেত্রে আপনার ভালো পারফরমেন্সের ডেস্কটপ

পিসি প্রয়োজন। আজকাল গেমিংয়ের জন্য বিশেষভাবে তৈরি অনেক ল্যাপটপ

পাওয়া যায়। সত্যি কথা বলতে গেলে ডেস্কটপের পারফরমেন্সকে পেছনে

ফেলার মত ল্যাপটপ কমই পাবেন। আবার এইসব ল্যাপটপের জন্য আপনাকে

অধিক পরিমানের টাকা খরচ করতে হবে। এছাড়া ল্যাপটপ অধিক ভারী কাজ

কিংবা ভিডিও এডিটিং করলে ল্যাপটপ অধিক পরিমাণ গরম হয়। কিন্তু

ডেস্কটপে তা হয় না। তাই গেমাররা, গ্রাফিক্স নিয়ে কাজ করেন কিংবা ভিডিও

এডিটিং করতে চান তারা ডেস্কটপক কিনতে পারেন।


তাহলে ডেস্কট্ম নাকি ল্যাপটপ? কোনটি কিনব?

সবকিছু বিবেচনা করে আপনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কোনটি আপনার

জন্য সেরা। আপনি যদি গেমিং সহ হেভি কাজ এর জন্য কম্পিউটার কিনতে চান,

সেক্ষেত্রে ভালো মানের একটা ডেস্কটপ কিনতে পারেন। আর আপনি যদি

মোটামুটি মানের গেমিং বা কম লোডের কাজ করেন যেমন; (নেট ব্রাইজিং,

মাইক্রোসফট অফিস, টুকটাক ফটোশপ ) এবং পাশাপাশি পোর্টেবিলিটিও

দরকার হয় তাহলে আপনি ল্যাপটপ কিনতে পারেন। এছাড়া আপনি একই

বাজেটের ল্যাপটপের তুলনায় একই পারফরম্যান্সের অনেক অল্প টাকায়

ডেস্কটপ কিনতে পারেন। এই ক্ষেত্রে কিছু কথা আপনাকে মনে রাখতে হবে।

আপনি ডেস্কটপ কম্পিউটার কারেন্ট ছাড়া এক সেকেন্ড ও চালাতে পারবেন না।

পক্ষান্তরে যদি আপনি ল্যাপটপ কেনেন তাহলে কারেন্ট না থাকলেও ব্যাটারির

সাহায্যে সে আপনাকে ব্যাকআপ দেবে যতখন না ব্যাটারির ব্যাকআপ বা চার্জ

শেষ না হয়। আবার আপনি ডেস্কটপ কম্পিউটার কিনলে আপনার প্রয়োজন

মতো যেকোন হার্ডওয়ার পরিবর্তন কিংবা সেট করতে পারবেন। কিন্তু আপনি

এই সুবিধাটি আবার ল্যাপটপে পাবেন না, এতে নির্দিষ্ট হার্ডওয়ার পরিবর্তন করা

যায় না। কিন্তু আবার একটা ডেস্কটপ কম্পিউটার রাখার জন্য আপনার নির্দিষ্ট

একটা জায়গার সেট করতে হবে এবং রাখার জন্য একটা মোটামুটি বড়

জায়গার প্রয়োজন। পক্ষান্তরে যদি ল্যাপটপ কেনেন, সে ক্ষেত্রে এটার জন্য

নির্দিষ্ট জায়গার প্রয়োজন হয় না বা নির্দিষ্ট জায়গা সিলেক্ট করা লাগে না।

আপনি যেকোন জায়গায় রেখে আপনার কাজ করতে পারেন।

 

তাই আপনার আপনার বাজেট সীমিত থাকলে আবার ভালো পারফরম্যান্সের

কম্পিউটার দরকার সেক্ষেত্রে আপনি ডেস্কটপ কিনতে পারেন। আর সাধারণ

ব্রাউজিং ও অফিসের কাজ করতে চান এবং বহনযোগ্যতা চাইলে ৩০ হাজার

টাকার আশেপাশে এন্ট্রি লেভেলের ল্যাপটপ নিতে পারেন। আপনি ডেস্কটপ

নাকি ল্যাপটপ নিবেন এটা সম্পূর্ণ আপনার চাহিদার উপর নির্ভর করে। তাই

আপনি ডেস্কটপ নাকি ল্যাপটপ কোনটি কিনবেন, এটা সম্পূর্ণ আপনার উপর

নির্ভরশীল। তাই আপনার সুবিধা অনুযায়ী এবং আপনার চাহিদার উপর নির্ভর

করে সিদ্ধান্ত নিবেন। আপনি কোনটি পছন্দ করেন ? ডেস্কটপ নাকি ল্যাপটপ?

নিচে কমেন্ট করে জানান


আশা করতেছি আজকের ব্লগ থেকে আপনি একদমই ক্লিয়ার

হতে পারছেন যে, আপনার কাজের জন্য আপনি কোনটি

কিনবেন ডেস্কটপ নাকি ল্যাপটপ! যদি আজকের এই ব্লগটা

ভালো লেগে থাকে, তাহলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার

করে তাদেরকে জানার সুযোগ করে দিন। আমাদের সাইটে

আবারও আসার জন্য আমন্ত্রণ রইল। ভালো থাকবেন,

ধন্যবাদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য